মোঃ সায়েস্তা মিয়া, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধিঃ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বোরো চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চাউলধনি হাওর সহ বিভিন্ন হাওরে পাকা বোরোধানের শতশত একর জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতার কারণে ঘরে উঠবে না কৃষকের বুনা স্বপ্ন। বৃষ্টি কমলেও জলাবদ্ধতা সহজে নিরসন হবে না। যেসব ধান তলিয়ে গেছে তা আর কেটে ঘরে তুলার আশা নেই। বৃষ্টি থেকে বন্যা হওয়ার আগাম সতর্কতা থাকায় কৃষকরা প্রাণপণ চেষ্টা করে গেছেন ধান কেটে ঘরে তুলতে কিন্তু শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পারেননি তারা। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সতর্কতা এখনও শেষ হয়নি। বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে হাওরে ৮০ শতাংশ এবং অন্যান্য আবাদি জমির ৬৫ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। কৃষি অফিস একশো হেক্টর জমি তলিয়ে যাওয়ার কথা বললেও বাস্তবে এর সংখ্যা আরো বেশি। বোরোধান উৎপাদন লক্ষ্য মাত্র অর্জন ব্যাহত হবে এবছর। ৩২ হাজার মেট্রিকটন বোরোধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ কর হয়। প্রায় একশো একর কমি তলিয়ে যাওয়ায় এই অর্জন সম্ভব নয় জানান কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন।.
.
এবছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে বোরোধান আবাদের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৭ হাজার ৩শত হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৩০৪ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হেক্টর বেশি ছিল। .
.
ধান তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্যভাবে পড়বেন এই উপজেলার কৃষকশ্রেণি এমন হতাশার কথা তুলে ধরেন চাউলধনি হাওরের কৃষক নিজাম উদ্দিন ও এখলাছ আলী। নিজাম উদ্দিন জানান, আমি ৮ একর বোরো আবাদ করেছিলাম কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সাড়ে তিন একর বোরো তলিয়ে গেছে। বর্তমানে ধানের উপরে প্রায় ১ হাত পানি রয়েছে। তলিয়ে যাওয়া ধান আর কাটা যাবে না। এবছর আমরা খাদ্যভাবে পড়ব। এখলাছ আলীরও ৬বিঘা জমি তলিয়ে গেছে। তিনিও ভাতের যোগান নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। তিনি বলেন, কৃষি ছাড়া আমার আয়ের আর কোনো উৎস নাই। আমরা এখন কি করব। সরকারের সহায়তা না পেলে উপায় নাই। .
.
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন জানান, কৃষকের খোঁজ খবর নিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। সরকারি ভাবে কোনো সহযোগিতা প্রদানের সিদ্ধান্ত হলে বিশ্বনাথের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরাও তা পাবে।. .
ডে-নাইট-নিউজ /
আপনার মতামত লিখুন: